সাবজেক্ট রিভিউ

দূর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা

সকল সাবজেক্ট রিভিউ
দূর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা

বিষয়বস্তু কি?

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চল। প্রায় সারা বছর জুড়ে সাইক্লোন, বন্যা, নদীভাঙ্গন, পাহাড়ধ্বস এর মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই অঞ্চলের মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গী। এছাড়াও খুব দ্রুত শিল্পায়ন এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। এই সব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজন দুর্যোগ সম্পর্কিত জ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। এরই ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি চালুর পিছনের কারণ

বাংলাদেশ বিশ্বের দুর্যোগ প্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই লক্ষ্যে ২০১২ সালে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। এ বিভাগ দুর্যোগ ঝুঁকি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রদান করে। বর্তমানে, পৃথিবীতে কেবল, প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয় বরং মানবসৃষ্টি নানা দুর্যোগ ও যেমন: সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ, যান্ত্রিক বিপর্যয় ইত্যাদি ও আর্থ-সাময়িক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী। এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জেন্ডার ইস্যুটিকে আর ও বাস্তবসম্মত উপায়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত বহুসংখ্যক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প হতে দুর্যোগ ঝুঁকি ও আপদকালীন ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত অনেক জ্ঞান ও তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। এখন এই অর্জিত জ্ঞানকে একাডেমিকভাবে বিন্যস্ত ও উন্নত করার সময় হয়েছে। এই উদ্দেশ্যেই মূলত দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ জাতীয় ও মানবিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে। বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞানের যৌথ প্রয়োগে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ বিভাগ নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

কোথায় পড়ানো হয়?

বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট খুব সম্পতিকালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ডিপার্টমেন্ট অতীতে মাস্টার্স কোর্স থাকলেও এখন স্নাতক পর্যায়ে ৪ বছর মেয়াদী কোর্স চালু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ভালনারেবিলিটি স্টাডিজে স্নাতক, স্নাতকোত্তর সহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, শর্ট কোর্স, পিএইচডি, এমফিল করার সুযোগ আছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আছে-

  • বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনালস (BUP);

  • পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU);

এইসকল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর করা যায়। এছাড়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যলয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU) তে মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে।

 

চাকুরিক্ষেত্র

ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা - সিডর আর আয়লার মত ঘূর্ণিঝড়ে ধরাশায়ী প্রিয় মাতৃভূমিকে ভবিষ্যত আতংক থেকে বাঁচানোর জন্য এই বিষয়ের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাছাড়া এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার গুরুত্বও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। এ বিষয়ে পড়ালেখা শেষে সরকারের পরিবেশ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস, এলজিইডি, ভূমি অধিদফতর, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা ইত্যাদিতে রয়েছে চাকরির সুযোগ নিতে পার।

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ ও উন্নয়নশীল দেশ। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যেমন প্রতিনিয়ত ঘটছে সেই সাথে চলছে অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন প্রোজেক্ট। সরকারি বিভিন্ন সেক্টরের পাশাপাশি সুযোগ থাকছে বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, এনজিও, ডোনার এজেন্সি, একাডেমিক ও রিসোর্স ইন্সটিটিউটসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- সেভ দ্যা চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ. অ্যাকশন এইড, ইউএনডিপি, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি।

এছাড়াও ডিজাস্টার, সাইক্লোন শেল্টার ডিজাইন, রেসিস্টেন্ট বিল্ডিং তৈরি, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ত্রাণ ও সাহায্য ব্যবস্থাপনা, টিমওয়ার্ক বিল্ডিং সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভেদে অভিজ্ঞতা ও পদন্নোতির ভিত্তিতে সম্মানী আরও বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, এনজিও, ডোনার এজেন্সি, একাডেমিক ও রিসোর্স ইন্সটিটিউটসহ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির শুরুতেই স্মার্ট বেতন দিয়ে থাকে।

 

একজন ডিজাস্টার ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া

এই সেক্টরে রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ। এইসাথে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা ও ভাতা। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এই পেশায় সুযোগ সুবিধা তুলনামূলক ভাবে বেশি। এছাড়া অধিকাংশ কাজ প্রোজেক্ট নির্ভর তাই কাজে রয়েছে বৈচিত্র ও নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ। ক্যারিয়ার হিসেবে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট খুবই আকর্ষণীয়।

একজন ডিজাস্টার ম্যানেজার কী ধরনের কাজ করেন?

  • লিডিং, মনিটরিং, প্ল্যানিং, কোঅর্ডিনেটিং, সাপোর্ট এর মাধ্যমে ইফেকটিভ ও এফিশিয়েন্ট প্রোজেক্ট নিশ্চিত করা;

  • ইমারজেন্সি রেসপন্স প্ল্যান আপডেট ও রিভিউ করা;

  • ইমারজেন্সি রেসপন্স এর টেকনিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করা;

  • প্রতিষ্ঠানের ক্যাপাসিটি উন্নয়ন করা, ইমারজেন্সি রেসপন্স প্ল্যান এর জন্য;

  • পটেনশিয়াল ইমারজেন্সি/ হিউম্যানেটেরিয়ান চাহিদাগুলো মনিটর করা, এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলো হিউম্যানেটেরিয়ান রেসপন্স প্ল্যানে ইনপুট করা। এইসাথে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমকে পরামর্শ দেয়া;

  • প্রোজেক্ট রিলেটেড নোট তৈরি করা এবং ফান্ডিং প্রোপজাল প্রস্তুত করা;

  • নতুন টিম মেম্বারদের প্রোজেক্ট এর কাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং স্টেকহোল্ডারদের রেসপন্স ম্যানেজম্যান্ট সম্পর্কে অভিহিত করা;

  • রিসার্চ এবং ডাটা কালেকশন করা। এবং সময়ের সাথে সাথে নতুন ইমারজেন্সি বিষয়গুলো খুজে বের করা;

  • লোকাল পার্টনারদের ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করার জন্য ট্রেনিং প্রদান করা;

  • ফ্রেমওয়ার্ক ডেভলপ ও ইমপ্লিমেন্টেশন করা।

কোন ধরনের শিল্পে একজন ডিজাস্টার ম্যানেজার কাজ করেন?

ডিজাস্টার ম্যানেজার দুর্যোগ আক্রান্ত অঞ্চলে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট, রিলিফ, ট্রেনিং, মিটিগেশন ও সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত ফিল্ডে কাজ করে থাকেন। সাধারণত বেসরকারি বিভিন্ন এনজিওর দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা সম্পর্কিত প্রোজেক্ট এর ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব ও সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এর অধীনে প্রোজেক্ট নির্ভর বিভিন্ন কাজ করেন।