সাবজেক্ট রিভিউ

ফরেস্ট্রি

সকল সাবজেক্ট রিভিউ
ফরেস্ট্রি

বিষয়বস্তু কি?

নাম শুনে হয়তো বা মনে হতে পারে এখানে শুধু গাছ আর বন সম্পর্কেই পড়ানো হয় কিন্তু মোটেও তা নয়। ফরেস্ট্রির পরিধি কেবল গাছ নিয়ে গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফরেস্ট্রির পরিধী কেবল গাছ চেনা লাগানো আর কাটাকাটির মধ্যে না, ইকলোজি, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট, উড স্ট্রাকচার, প্রোপার্টিজ, সিজনং, প্রিজারভেশন , ট্রি ফিজিওলজি, সয়েল সাইন্স, এনভায়রনমেন্টাল ইকোনোমিক্স, জেনেটিক্স এন্ড ট্রি ইম্প্রুভমেন্ট, এগ্রো ফরেস্ট্রি, ফরেস্ট্রি মেনসুরেসন এন্ড ইনভেন্টরি, ফরেস্ট্রি বেজড ইন্ডাস্ট্রি, সার্ভেইং, সহ পড়ানো হয় রিমোট সেন্সিং এন্ড জি আই এস, বন্যপ্রাণী সংরক্ষন, ফরেস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং, এন্টমোলজি ইত্যাদি সহ অনেক মজার মজার বিষয়ও এখানে জানতে পারা যাবে।

 

কি কি বিষয় পড়ানো হয়?

ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ,কম্পিউটার এপ্লিকেশন, সোশিওলজি প্রভৃতি কমন কোর্স বাদেও রয়েছে ইকোলজি, এন্টমোলজি, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট, উড স্ট্রাকচার, ট্রি ফিজিওলজি, সয়েল সাইন্স,ফরেস্ট্রি মেনসুরেন এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, ফরেস্ট্রি বেজড ইন্ডাস্ট্রি,ফরেস্ট ইন্জিনিয়ারিং, সার্ভেয়িং প্রভৃতি। পাশাপাশি মৃত্তিকাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, জলবায়ু বিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বন ব্যবস্থাপনার উপর হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।

 

কোথায় পড়ানো হয়?

দেশে সাধারণত ৩ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি সরাসরি পড়ানো হয়ে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রো ফরেস্ট্রি বিষয়ের উপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

 

চাকুরিক্ষেত্র

ফরেস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট থেকে পাস করা ছাত্রদের কর্মক্ষেত্র যথেষ্ট পরিমাণ প্রসারিত। দেশের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখানের শিক্ষার্থীরা কর্মরত আছে। সরকারী পাবলিক সার্ভিস কমিশন তো বটেই পাশাপাশি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড রিসার্চ অফিসার,স্পেস রিসার্চ এ্যান্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশের ফরেস্ট্রি সেক্টর এও কাজ করার সুযোগ রয়েছে এ বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিভিন্ন পাল্প এ্যান্ড পেপার মিলসে ও বাংলাদেশ ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনে ম্যানেজার পদে ও কাজ করছে এ বিভাগ থেকে পাস করা ছাত্র ছাত্রীরা।

বুঝার সুবিধার্থে নিচে স্পেসিফিক জব সেক্টরগুলো তুলে ধরা হলো-

  • SPARSO (স্পেস রিসার্চ এন্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ)

  • BFRI ( বাংলাদেশ ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট)

  • BFD (বাংলাদেশ ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট)

  • পাবলিক সার্ভিস কমিশন সহ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়

  • বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট

  • মাছ ও বন্যপ্রাণী সেবা অধিদপ্তর,

  • বিভিন্ন পাল্প এন্ড পেপার, রেজিন, রাবার, প্লাইউড মিলসে স্পেশালিস্ট,

  • চিড়িয়াখানায় ওয়াল্ড লাইফ বায়োলজিস্ট,

  • বাংলাদেশ ফরেস্ট একাডেমি

এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ফরেস্ট্রির শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। যেমন -

  • নিসর্গ সাপোর্ট প্রোজেক্ট

  • ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজার্ভিং ন্যাচার

  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড ফান্ড

এছাড়াও বিভিন্ন এনজিওর বনবিদ্যা রিলেটেড শাখা সেখানে বন ও পরিবেশবিদ্যার নিজস্ব সেক্টর বিদ্যমান (ব্র্যাক,কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি)। সবশেষ, বিসিএসেও তো আলাদাভাবে কোটা আছেই। আবার সাধারণ ক্যাডারেও সুযোগ সবার মতো সমান তো পাওয়া যাবে। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে ফরেস্ট্রির সুযোগ কিন্তু কম নয়।

 

উচ্চশিক্ষা

দেশে মাত্র ৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্ট আছে বলে যে গবেষণার সুযোগ লিমিটেড ব্যাপারটি এমন নয়। বরঞ্চ এই গতিশীল সাবজেক্টে আপনি ভালো করলে দেশের বাইরে জার্মানি, ইউকে, আমেরিকা, তাইওয়ান, ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে পারবেন। ফরেস্ট্রি সাবজেক্টে স্কলারশিপ বেশ ভালোই মেলে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই স্কলারশিপ দেয় এবং কিছুতে পার্টটাইম চাকরিরও সুযোগ রয়েছে।

 

পরিশেষে

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত অন্যতম বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। তাই ভবিষ্যত পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে রক্ষা এবং সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই সাবজেক্ট এর গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও যদি বনভূমি ধ্বংস,নদী দূষণ, বন্য প্রাণী পাচার,বর্জ্যের অব্যবস্হাপনা, পানি দূষণ এর মত যেসব সমস্যায় বাংলাদেশ জর্জরিত এসব নিয়ে যদি কাজ করার ইচ্ছে থাকে এবং প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার, সৌন্দর্য উপভোগ করার ইচ্ছে থাকে তবে ফরেস্ট্রি হবে বেস্ট অপশন।